প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 9, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 9, 2026 ইং
৩ নভেম্বরের আগে ইরানে হামলা নয় : ট্রাম্প

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আগামী ৩ নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে মার্কিন বাহিনীর ফের হামলা শুরুর কোনো সম্ভানা নেই। বর্তমানে ইরানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধিদের ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
গত কাল ৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমি সবার কাছে স্পষ্টভাবে বলতে চাই, যদিও ইরান অর্থনৈতিক ও সামরিক—উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে এবং তাদের ওপর আরোপিত অবরোধ পূর্ণমাত্রায় বলবৎ থাকবে—এমনকি যেখানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে রেকর্ড পরিমাণ তেল (গত রাতেই ২২ মিলিয়ন ব্যারেল) প্রবাহিত হচ্ছে অথচ তার মধ্যে এক ব্যারেল তেলও ইরান থেকে আসছে না বা সেখানে যাচ্ছে না—তা সত্ত্বেও, আগামী ৩রা নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে আমরা কোনোভাবেই ইরানকে লক্ষ্য করে কোনো হামলা পরিচালনা করব না।”
“তাছাড়া বর্তমানে আমাদের প্রতিনিধিরা ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করছে এবং আমরা আশা করছি, সে আলোচনা ফলপ্রসূ হবে।”
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি-বেসরকারি একাধিক জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্যে দিয়ে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের ফলে ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ জনপ্রিয়তা বা জনসমর্থনের হার কমে গেছে। পাশাপাশি এ যুদ্ধ নভেম্বরের নির্বাচনে কংগ্রেসে ট্রাম্পের রাজনৈতিক দল রিপাবলিকান পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখঅর ক্ষেত্রে দলের প্রার্থীদের ওপর বড় ধরনের চাপও সৃষ্টি করেছে।
রয়টার্স-ইপসোসের সাম্প্রতিক এক জরিপ বলছে, প্রায় ৬০ শতাংশ মার্কিনি—যাদের প্রতি চারজনে একজন রিপাবলিকান দলের সদস্য বা সমর্থক রয়েছেন, তারা ইরান পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্পের পদক্ষেপের সঙ্গে একমত নন। এই সংঘাতের জেরে বিশ্বের অন্যান্য দেশে তো বটেই, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে; অথচ ভোটাররা বলছেন যে জীবনযাত্রার ব্যয় বা খরচই তাঁদের কাছে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়।
ট্রাম্প বারবার বলে আসছেন যে নির্বাচনের পর তেলের দাম কমে আসবে বলে তিনি আশা করছেন, তবে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার কোনো সুনির্দিষ্ট বা বিস্তারিত পরিকল্পনা তিনি এখনো তুলে ধরেননি।
যুদ্ধ বন্ধ এবং বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব পেশ করেছে। তবে ট্রাম্প তেহরানের সর্বশেষ প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বৃহস্পতিবার জানিয়েছে যে, তেহরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ করবে না কিংবা তাদের ইউরেনিয়ামের মজুদ হস্তান্তর করবে না। দেশটির পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধানের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এদিকে কয়েক দিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স রয়টার্সকে বলেছিলেন যে, ইরানকে অবশ্যই তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা "অর্থবহ" মাত্রায় কমিয়ে আনতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং পশ্চিমা মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টার অভিযোগ করে আসছে; তবে ইরান বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।
সূত্র : রয়টার্স
এই ওয়েবসাইটের সকল ছবি ও ভিডিও অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার করা নিষেধ। উক্ত নিউজ পোর্টালটির নিবন্ধন কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে।